* উপজেলা ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে : সিইসি
* গজারিয়ায় ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
* খাগড়াছড়িতে ৪ ব্যালট বাক্স ছিনতাই
* মাদারীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ ও বোমাবাজি
* ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাল ভোট দেয়ায় ২ পোলিং এজেন্টসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড
* সিরাজগঞ্জে লাখ টাকাসহ ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
* ভোটের আগের রাতে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যু
* ভোট জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আটক
স্টাফ রিপোর্টার
বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন চলাকালে গোলাগুলি, সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভোটগ্রহণ স্থগিত করা এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আটকসহ নানা ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন স্থানে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ১৩৯ উপজেলায় গতকাল বুধবার প্রথম ধাপে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানা গেছে, প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সারাদেশে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম। বিকেল পর্যন্ত সেটি ৩০-৪০ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার নির্বাচন চলাকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম (আনারস) ও মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহর (কাপ পিরিচ) সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল থেকে হোসেন্দি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছিল। ওই কেন্দ্রে মনিরুল হক ও তার লোকজন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। বেলা আড়াইটার দিকে মনিরুলের লোকজন নিয়ে ওই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। তারা আনারস প্রতীকে সিল মারেন। এতে প্রায় ঘণ্টাখানেক ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আবারও কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করেন তারা। এ সময় ওই কেন্দ্রের দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বদিউজ্জামান এলে তার গাড়িও ভাঙচুর করেন মনিরুলের লোকজন। পুলিশের সঙ্গে মনিরুল ও তার লোকজনের কয়েক দফা গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে কিছু লোক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে আমরা সেগুলো উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আধা ঘণ্টার মতো ভোট বন্ধ ছিল। পরে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কেন্দ্রের বাইরে হয়েছে। এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে জানতে মনিরুল হক মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, কোনো হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গজারিয়া থানার ওসি রাজীব খানসহ কয়েকজন পুলিশ কাপ-পিরিচের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুর আহমদ খান জিন্নার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়েছেন। তারা আমাদের সমর্থক ও লোকজনকে আনারস প্রতীকে ভোট দিতে দিচ্ছিলেন না। এতে ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করেছে। আমাদের লোকজন আহত হয়েছে। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজীব খান বলেন, গতকাল বুধবার দুপুরের ঘটনার পর দ্বিতীয় দফায় ভোট শুরু হয়েছিল। ওই পথ ধরে আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদিউজ্জামান স্যার গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় চেয়ারম্যান মনিরুলের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে স্যারের গাড়িতে হামলা চালায়। আমরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের ওপর আবার হামলা চালায়। আত্মরক্ষায় আমরা গুলি ছুড়ি। তাদের হামলায় দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মো. রাজীব খান আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এদিকে সকালে ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটকেন্দ্রের বাইরে পুলিশের এক সদস্যকে মারধর করেন মনিরুল হকের লোকজন। এ সময় ছবি ও ভিডিও করায় দৈনিক মানবজমিনের মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ও মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি গোলজার হোসেনের মুঠোফোন, আইডি ও পর্যবেক্ষণ কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে মনিরুল হকের উপস্থিতিতে তার ভাই-ভাতিজা মারধর করেন। এ ঘটনায় মনিরুল হকসহ ১৮ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেন গোলজার হোসেন। টাঙ্গাইলে মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও প্রার্থীদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। মধুপুর উপ?জেলার গাংগাইর আহম্মদ আলী মেমো?রিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কে?ন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ দুই উপজেলায় আতঙ্ক ও বৃ?ষ্টির কার?ণে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপ?স্থি?তি অনেক কম ছিল। সুনামগঞ্জের শাল্লার চব্বিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের সামনে ঘোড়া ও আনারস প্রতীকের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্মথকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হন। এর আগে গত সোমবার রাত ২টার দিকে একই কেন্দ্রের সামনে থেকে অন্য কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। সাংবাদিক মারধরের ঘটনা ঘটেছে সিলেটের সদর উপজেলায়। সদরের ঘোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট দিতে গিয়ে এক যুবক আটক হলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে না পেরে ছবি তুলতে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে বগুড়ার সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া কুসুমকলি কেন্দ্র থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ দুজন আটক হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের জাল ভোট দিতে না দেয়ায় পোলিং অফিসারকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। বেলা ১১টায় উপজেলার রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার সদর উপজেলায় চৌপল্ডী দক্ষিণ রাখাইন পাড়া সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আবছারের পক্ষে মাসুদ পারভেজ নাম এক এজেন্টকে প্রকাশ্যে টাকা বিতরণকালে আটক করা হয়। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে একটি ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে মীর রেজাউল ইসলাম বাবু নামে এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে আটক করে বিজিবি। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ নূর উদ্দিন নামের এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের ৩ উপজেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝেই কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করায় সাময়িক সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। প্রথম ধাপে ১৩৯ উপজেলার মধ্যে ২২টিতে ইভিএম ও বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই ধাপে মোট ১ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ জন প্রার্থী রয়েছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রথম ধাপের নির্বাচনে জাল ভোট দেয়া এবং ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগে তিন যুবককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার কাটানিসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই দণ্ডাদেশ দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিসার গ্রামের শাকির মিয়া (৩৯), একই গ্রামের হৃদয় মিয়া (২৮) ও মো. রাকিব হোসেন (২৪)।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ বলেন, কাটানিসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবৈধভাবে গোপন কক্ষে গিয়ে অন্যের ব্যালট পেপারে সিল মারার সময় শাকির মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। একই কেন্দ্রে অপর পোলিং এজেন্ট মো. হৃদয় মিয়া ও মো. রাকিব হোসেনকে আটক করা হয় ভোটারদের ভোট দিতে প্ররোচিত করার অপরাধে। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন ধারায় শাকিরকে ১৫ দিন, হৃদয়কে ১০ দিন এবং রাকিবকে সাত দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র ১০টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে এলাকায় ও ভোটারদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাজাহান খানের ছেলে আসিফ খান এবং মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান নির্বাচন করছেন। এই নির্বাচনে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে দশটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মাদারীপুর সদর থানার ওসি এসএম সালাউদ্দিন জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার পরে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে।
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া এলাকায় এক ভোটারের ভোট দিয়ে দেওয়ার অভিযোগে পোলিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলামকে দ্বায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছেন প্রিসাইডিং অফিসার। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট হচ্ছে ইভিএম পদ্ধতিতে। মো. জাহিদুল ইসলাম নান্দিনা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ভোটারদের অভিযোগ, সকালে ভোট দিতে গিয়ে যে প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা, সে প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি তারা। পরে পোলিং অফিসার নিজে বুথের গোপন কক্ষে নিয়ে ইভিএমের দুটি বাটন চাপতে বলেন। সেই বাটন চাপলে ভোট অন্য প্রার্থীর জায়গায় পড়ে। এসময় প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন ভোটাররা। শেখ ফকরুল হুদা নামে এক ভোটার প্রশ্ন করেন, আমার ভোটের কী হবে? এ উত্তর দিতে পারেননি প্রিসাইডিং অফিসার। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং অফিসার কোরবান আলী বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি, কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার আগেই দ্রুত পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পোলিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সাদা বাটন ও সবুজ বাটনে টিপ দিতে বলেছি। তারপর আমি ভোটারদের বলেছি, ভোট যেখানে ইচ্ছা সেখানে চাপতে। আমার ভুল ছিল না। জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, ভোটারদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত আমরা সেই পোলিং অফিসারকে তার দ্বায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ‘ভোট কেনা’র সময় নগদ ৯৪ হাজার টাকাসহ জহুরুল ইসলাম নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বেলকুচি উপজেলার তামাই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক জহুরুল ইসলাম বেলকুচি উপজেলার ভাঙাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি এ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম সরকারের (প্রতীক-দোয়াত কলম) পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. জুলহাজ উদ্দিন জানান, তামাই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশেই দোয়াত কলম প্রতীকের পক্ষে টাকা দিয়ে ভোট কিনছিলেন চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসার পর পরবর্তী করণী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের ১৩৯ উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন
বিচ্ছিন্ন ঘটনায় প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ